
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনই জামানত হারিয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ আসনে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল মাত্র দুই প্রার্থীর মধ্যে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলায় মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৯টি এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৬টি। দুই উপজেলা মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৬২ হাজার ১৮৫।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসেবে এ আসনে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৩২ হাজার ৭৭৩ ভোট।
ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর প্রার্থী হাজী মো. জসিম উদ্দিন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর প্রার্থী ড. মোবারক হোসেন পান ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৪৭ ভোট। এতে ৯ হাজার ৯৩৮ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন জসিম উদ্দিন।
বুড়িচং উপজেলার ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ফলাফল ঘোষণা করেন মাহমুদা জাহান। পরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান বেসরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
বিজয়ী ও রানারআপ ছাড়া বাকি আট প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোটের সীমা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন—
- আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) – ৩৩৪ ভোট
- আবুল কালাম ইদ্রিস (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ) – ১৪৫ ভোট
- তানজিল আহমেদ (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ) – ১৬২ ভোট
- মো. আবুল বাশার (এনপিপি) – ৯৭ ভোট
- মো. ইমরান উল হক (জাতীয় পার্টি) – ৬৭২ ভোট
- মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) – ১,৪৫১ ভোট
- জোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া (এবি পার্টি) – ২,০০৯ ভোট
- শিরীন আক্তার (জেএসডি) – ১৩৭ ভোট
সব মিলিয়ে কুমিল্লা-৫ আসনে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে অন্য প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে ব্যর্থ হন এবং ব্যাপক ব্যবধানে পরাজিত হয়ে জামানত হারান।











