গাজায় ত্রানের জাহাজ পৌছায়নি, কিন্তু কেন?

গাজায় ত্রানের জাহাজ পৌছায়নি, কিন্তু কেন?

ইউরোপ থেকে ত্রাণ নিয়ে যে জাহাজগুলো ফিলিস্তিনের গাজার উদ্দেশে রওনা করেছিল, এর প্রায় সবই জব্দ করেছে ইসরায়েল। এসব জাহাজে থাকা সব অধিকারকর্মীকে আটক করছে ইসরায়েলি বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের এমন হস্তক্ষেপের জেরে ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। সরকারের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করছেন বিক্ষোভকারীরা। ইসরায়েলের এ হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ।

২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপর থেকে গাজা উপত্যকা অবরুদ্ধ। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এরপর সেদিনই পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর জেরে ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইসরায়েল। এমনকি জাতিসংঘের ত্রাণবহরও সেখানে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ত্রাণকর্মী এবং ত্রাণ নিতে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ পরিস্থিতিতে কিছুদিন ধরে গাজায় দুর্ভিক্ষের সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে জাতিসংঘসহ বেশ কিছু সংস্থা। তবে এতে কোনো সাড়া দেয়নি ইসরায়েল। এই অবরুদ্ধ দশা থেকে গাজাবাসীকে মুক্তি দিতে চলতি বছরের মাঝামাঝি গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা।

এই ফ্লোটিলায় ৪৩টি জাহাজ রয়েছে। এতে করে ত্রাণ নেওয়া হচ্ছে গাজাবাসীর জন্য। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন এসব জাহাজ। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, পরিবেশকর্মী, অধিকারকর্মীও রয়েছেন।

গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল বলে আসছে, তারা কোনো ত্রাণ সেখানে ঢুকতে দেবে না। এই ত্রাণ ইসরায়েলের হাতে তুলে দিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে গত ৩১ আগস্ট স্পেনের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ত্রাণবাহী জাহাজগুলো। তবে পথে বিভিন্ন সময় ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার মুখে পড়ে তারা। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর এসব জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয় তিউনিসিয়ার উপকূলে। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রিসের উপকূলে আবারও হামলা চালানো হয়। তবে এসব হামলায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। এমন হামলার পর গাজার উপকূলের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে জাহাজগুলো। ইসরায়েলের সতর্কবার্তার পরও ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা গাজাবাসীর হাতেই ত্রাণ তুলে দেবে।

Facebook
WhatsApp
X
Telegram

মন্তব্য করুন