📅 স্টাফ রিপোর্টার |
📍 ৪ নভেম্বর ২০২৫
দেশের পেঁয়াজের বাজার আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। গত দুদিনে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম ছাড়িয়েছে ১০০ টাকার ঘর। বর্তমানে রাজধানীর বাজারগুলোতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা তিন দিন আগেও ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
শ্যামবাজার, কারওয়ান বাজার ও অন্যান্য পাইকারি বাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহের শেষে ছিল ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।
রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারের আড়তদাররা জানিয়েছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লার আড়তদার আবুল কালাম বলেন, “পাবনা ও ফরিদপুরের মোকামে দাম বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশের পাইকারি বাজারে প্রভাব পড়েছে। আগের তুলনায় প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে।”
চট্টগ্রামের চাক্তাই–খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারেও তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকায়।
খাতুনগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া বলেন, “ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।”
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, রবি মৌসুমের রোপণ দেরিতে শুরু হওয়ায় নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে সময় লাগবে। পাবনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো রোপণ শেষ হয়নি। সময়মতো আমদানি অনুমোদন না পেলে দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে, কৃষি অধিদপ্তর বলছে দেশে এখনো পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকের হাতে প্রায় ৫ লাখ টন পেঁয়াজ মজুত রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন,
“এই মুহূর্তে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। এটি নিঃসন্দেহে ব্যবসায়ী কারসাজি। নভেম্বরেই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বাজারে আসবে, আর ডিসেম্বরের মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজও উঠবে। ফলে দাম আবার স্বাভাবিক হবে।”
পেঁয়াজের বাজারে হঠাৎ দাম বৃদ্ধিকে অনেকে “কৃত্রিম সংকট” হিসেবে দেখছেন।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “বৃহস্পতিবার থেকে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। এখন আমরা ৭৭–৮০ টাকায় কিনে ৮০–৯০ টাকায় বিক্রি করছি।”
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন,
“বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমদানির পাঁয়তারা চলছে। আড়তদার ও দাদন ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই দাম বাড়ানো হচ্ছে।”
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৫ লাখ টন, আর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টন। তবুও ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে আমদানির অনুমতি চাচ্ছেন।
উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ে জমা পড়েছে ২,৮০০টির বেশি আমদানি অনুমতির (আইপি) আবেদন, কিন্তু এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমান বলেন,
“গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ নভেম্বরেই বাজারে আসবে। এখন আমদানি অনুমতি দিলে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বেন। কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও আমদানি স্থগিত ও মৌসুমি প্রভাবের কারণে বাজারে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত দামের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে।