সাধারণত ধইঞ্চা চাষকে অবহেলার চোখে দেখা হয়। কিন্তু এ ধইঞ্চার আছে নানামূখী ব্যবহার।
কখনো সবুজ সার, কখনো জ্বালানি, কখনো আবার ঘরের বেড়া এবং কখনো বা সবজির মাচা হিসেবেও কাজে লাগানো যায়। আবার ধইঞ্চার পাতা এবং বীজ গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে। অন্যদিকে চর এলাকায় মাটির ক্ষয়রোধের জন্যও ধইঞ্চা চাষ করে থাকেন কৃষকরা।
এক ফসল থেকে আরেক ফসলের মাঝখানে যে সময় জমি ফাকা থাকে উক্ত সময়ে এলাকার কৃষকরা ধইঞ্চা বীজ বপন করেন। অনেকসময় ১৫ থেকে ২০ দিনের ধইঞ্চা লাঙ্গল দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। ফলে জমির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি পায়। কৃষকও বাড়তি খরচের হাত থেকে বেঁচে যায়

মুলত ফসল চক্রকে ঠিক রাখার জন্য ধইঞ্চা একটি সমন্বয়কারী ফসল। এই প্রসঙ্গে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ পরিচালক বলেন, নানামূখী ব্যবহার ও মাটির উর্বরাশক্তি ধরে রাখার জন্য সারাবছরই ধইঞ্চা চাষে কৃষকদের আগ্রহ হতে হবে। বর্তমানে রাজশাহী জেলায় কৃষকদের মধ্যে ধইঞ্চা চাষের প্রবণতা বেড়েছে। গ্রামের কৃষকরা নিয়মিত ধইঞ্চা চাষ করে বিভিন্নভাবে লাভবান হচ্ছেন।
মাটির ক্ষয়রোধ করার জন্যও ধইঞ্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোন একটি নিদির্ষ্ট জমিতে ধইঞ্চা চাষ করলে পাশের জমিতেও এর সুফল পাওয়া ।
জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণেরাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ধইঞ্চার নানামুখী ব্যবহার অবদান রাখতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধইঞ্চা গাছ হচ্ছে মাটির ভিটামিন। এ ছাড়া ধানক্ষেতে ধইঞ্চা গাছ থাকলে পাখি বসে। এসব পাখি ধানক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলে। তাতে ধানক্ষেতে রোগ-বালাই হয় না।
https://youtu.be/LyczIvmAjgk