পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিহতের নাম তারিক সাঈফ মামুন (৫০)। তিনি রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের কাছ থেকে পরিচয়পত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় মামুনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা। সেসময় গুলিতে মোটরসাইকেল আরোহী ভুবন চন্দ্র শীল আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সে ঘটনায় পুলিশ জানায়, কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমনের লোকজন এই হামলা চালায়।
মামুন কিছু মাস আগে জামিনে কারামুক্ত হন এবং রাজধানীর বাড্ডায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তার জানান,
“আজ সকালে মামুনের আদালতে হাজিরা ছিল। সে বাসা থেকে বের হয়েছিল। আমরা ধারণা করছি, ইমনের লোকজনই তাকে হত্যা করেছে। এর আগেও তারা হত্যাচেষ্টা করেছিল।”
ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন,
“নিহত ব্যক্তি সানজিদুল ইসলাম ইমন গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ সদস্য মামুন। টিপু ও সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলারও আসামি তিনি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং হত্যাকারীদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।”
কোতোয়ালি থানার এসআই মো. ইয়াসিন বলেন,
“গুলির শব্দ শুনে হাসপাতালে সামনে এসে দেখি একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে।”
সানজিদুল ইসলাম ইমন ও তারিক সাঈফ মামুন একসময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকায় ‘ইমন-মামুন বাহিনী’ নামে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। এলাকায় চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এ বাহিনী দীর্ঘদিন ত্রাস সৃষ্টি করে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়।