নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বিভেদ ও কর্মসূচির অমিলের কারণে আওয়ামী লীগ আবারও রাজনৈতিক ময়দানে সুযোগ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন,
“দুই দল নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির কারণে আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ পাচ্ছে। একদিকে জামায়াতের ভাইয়েরা, অন্যদিকে বিএনপির ভাইয়েরা—একজন আজ কর্মসূচি দেয়, আরেকজন কালকে দেয়।”
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কৃষক উইংয়ের এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,
“আমরা যদি সত্যিকারের সংস্কার করতে না পারি, শেখ হাসিনার শাসনতান্ত্রিক কাঠামো বারবার ফিরে আসার চেষ্টা করবে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো পরিবারের কাছে জীবন ‘বর্গা দিতে চায় না’।
“আমরা আমাদের জীবনকে কোনো পরিবারের কাছে বর্গা দিতে চাই না। কোনো পরিবারের কাছে জীবন বর্গা দিয়ে আমরা দাস হতে চাই না।”
তার মতে, দেশের রাজনীতিতে ব্যক্তিনির্ভরতা ও পারিবারিক উত্তরাধিকারের সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে আয়োজনের বিষয়ে এনসিপির অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন,
“গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”
তিনি সরকারের উদ্দেশে আহ্বান জানান,
“নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করুন। কমিশনকে শক্তিশালী না করে একই দিনে গণভোট ও নির্বাচন দিলে প্রক্রিয়াটি হুমকির মুখে পড়বে।”
নাসীরুদ্দীনের মতে, ইসি যদি নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে সংস্কারের লক্ষ্য ভেস্তে যাবে।
সরকারের নীতি ও জনসম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,
“সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা তাদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। অনেকেই গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে ‘মব’ বলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এই শক্তি স্তিমিত হয়নি।”
তিনি মনে করেন, সরকার জনগণের আস্থার জায়গায় ভুল করেছে।
“এই সরকারের নৈতিক ভিত্তি ছিল গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লব। সরকারের উচিত ছিল জনগণের সামনে শপথ পাঠ করা। সেই জায়গায় ভুল হয়েছে।”
জুলাই সনদের প্রসঙ্গে এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক বলেন,
“এখন প্রশ্ন হলো—জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি কে দেবেন? নৈতিকতার জায়গা থেকে এই দায়িত্ব নেবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।”
তার মতে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত প্রধান উপদেষ্টা পরিষদ যদি জুলাই সনদকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে দেশের রাজনীতি নতুন পথে এগোবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,
“আওয়ামী লীগ অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভীতি ছড়াচ্ছে। তাদের যাদের ব্যবসা ছিল, তারা গত ১৫ বছরে যে টাকা কামিয়েছে, সেই টাকা দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার পাঁয়তারা করছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠী ‘ককটেল নিক্ষেপ ও আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা’ চালাচ্ছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন,
“শেখ হাসিনার রায় ১৭ নভেম্বর ঘোষিত হবে—এটা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের জন্য নতুন একটি মাইলফলক।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ রায় দেশের বিচার বিভাগকে নতুন নৈতিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার দিকে নিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি মুখ্য সমন্বয়কের এই বক্তব্যে বিরোধী জোটের ভেতরকার কৌশলগত ফাটল ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের চিত্র ফুটে উঠেছে।
বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ঐক্য না থাকলে, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক পুনরুত্থানের সুযোগ পেতে পারে—এমন সতর্কবার্তাই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: এনসিপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়, রাজনৈতিক সূত্র
সম্পাদনা: প্রজ্ঞা সংবাদ