ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে চলছে চিকিৎসা বাণিজ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গড়ে উঠেছে নামে বেনামে অসংখ্য বেসরকারি ক্লিনিক ও তথাকথিত হাসপাতাল, যেগুলোতে নেই সরকারি অনুমোদন, নেই প্রয়োজনীয় জনবল, আর নেই আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার যোগ্যতা।অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে এসব ক্লিনিক।

নবীনগরের বিভিন্ন বাজারে ‘হাসপাতালের’ নামে চিকিৎসা ব্যবসা: নেই অভিজ্ঞ ডাক্তার, নেই প্রশিক্ষিত নার্স ও টেকনিশিয়ান।

রসুল্লাবাদ, বাঙ্গরা বাজার, জিনতপুর,শিবপুর, নবীপুর, ছলিমগঞ্জ, কৃষ্ণনগর,বিটঘর ও নবীনগর সদরের মতো জনবহুল বাজারগুলোতে দিনদিন বেড়েই চলছে এই ‘চিকিৎসা বানিজ্য’। অদক্ষ লোকবল ও ভুয়া ডাক্তার দিয়ে চলছে নানা রকম চিকিৎসা কার্যক্রম। এসব প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে রোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

হাসপাতাল নয়, যেন ব্যবসার ঘাঁটি

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখছেন এমন অনেকেই এমবিবিএস তো দূরের কথা, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা শিক্ষা পর্যন্ত পাননি। নার্স হিসেবে কাজ করছেন এমন অনেকেই এসএসসি বা এইচএসসি পাশ করেই শুরু করে দিয়েছেন ‘চিকিৎসা সেবা’। এমনকি ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে যারা কাজ করছেন, তাদের অধিকাংশেরই নেই কোনো সরকারি স্বীকৃত ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ।

রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা

এইসব তথাকথিত ক্লিনিকে ইনজেকশন, স্যালাইন, অপারেশন এমনকি গর্ভধারণ ও ডেলিভারির মতো জটিল চিকিৎসা কাজও চালানো হচ্ছে সম্পূর্ণ অপ্রশিক্ষিত নার্স ও সহকারীদের মাধ্যমে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দিতে না পেরে অনেক রোগীকে পাঠানো হয় অন্যত্র, বা কুমিল্লা সদরে ততক্ষণে তাদের অবস্থার চরম অবনতি ঘটে।

নিয়ন্ত্রণ নেই, দেখার কেউ নেই

নবীনগরের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? অনেকেই অভিযোগ করেছেন, নিয়মিত নজরদারি বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভাবে এইসব হাসপাতাল দিনের পর দিন ব্যবসা করে যাচ্ছে খোলাখুলি। কোথাও নেই লাইসেন্স, কোথাও নেই চিকিৎসা মান যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা।

রসুল্লাবাদ, বাঙ্গরা বাজার, জিনতপুর,শিবপুর,নবিপুর বাজার, বিটঘর,ছলিমগঞ্জ, কৃষ্ণনগর ও নবীনগরের সচেতন মানুষ চান, এসব অবৈধ ও ভুয়া চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান যেন দ্রুত বন্ধ করা হয়।

জনস্বাস্থ্যকে বাঁচাতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এখনই।

জনগণের দাবি: এসব অনিয়য়ের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা অচল ও মানুষের জীবন মৃত্যুর দিকে যাবে।

Facebook
WhatsApp
X
Telegram

মন্তব্য করুন