দেশের ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন শেষে ২৪টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এতে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। গত মার্চ শেষে ঘাটতি ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। নতুন করে এনআরবিসি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ঘাটতিতে যুক্ত হয়েছে। তবে একই সময় হাবিব ব্যাংক ঘাটতি থেকে বেরিয়ে এসেছে।
ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা জানান, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) ঘাটতিও বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পূর্বের লুকানো খেলাপি হিসাবগুলো প্রকাশ হওয়ায় খেলাপির পরিমাণ আরও দৃশ্যমান হয়েছে। বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাত লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন,
“গত বছরের ডিসেম্বরেও এনআরবিসির খেলাপি ঋণ ছিল ৫ শতাংশ। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ২৮ শতাংশে। ফলে অতিরিক্ত প্রভিশন রাখতে হচ্ছে, যা মূলধন ঘাটতির কারণ।”
জুন শেষে ব্যাংক খাতে মূলধন ঝুঁকিজনিত সম্পদের অনুপাত (CRAR) কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৪৭%, যেখানে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ন্যূনতম থাকা উচিত ১০%। মার্চ শেষে এ অনুপাত ছিল ৬.৭৪%।
| ব্যাংকের নাম | মূলধন ঘাটতি (কোটি টাকা) |
|---|---|
| জনতা ব্যাংক | ১৭,০২৫ |
| অগ্রণী ব্যাংক | ৭,৬৯৮ |
| রূপালী ব্যাংক | ৪,১৭৩ |
| বেসিক ব্যাংক | ৩,৭৮৩ |
বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন,
“ব্যাংকটি একসময় ভালো অবস্থায় ছিল। মাঝখানে ক্ষতির মুখে পড়ে। পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।”
| ব্যাংক | ঘাটতি (কোটি টাকা) |
|---|---|
| ন্যাশনাল ব্যাংক | ৮,৪৫৯ |
| এবি ব্যাংক | ৬,৭৭৫ |
| পদ্মা ব্যাংক | ৫,৬১৯ |
| আইএফআইসি ব্যাংক | ৪,০৫১ |
| বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক | ১,৮৭৮ |
| প্রিমিয়ার ব্যাংক | ১,৬৪০ |
| ইউসিবিএল | ১,৩৮৫ |
| এনআরবিসি ব্যাংক | ৩১৬ |
| ব্যাংক | ঘাটতি (কোটি টাকা) |
|---|---|
| ইউনিয়ন ব্যাংক | ২১,৩৮৭ |
| ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ | ১৮,৫০৪ |
| ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক | ১০,৫০১ |
| গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক | ৫,৫৫২ |
| ব্যাংক | ঘাটতি (কোটি টাকা) |
|---|---|
| কৃষি ব্যাংক | ২৯,১৬১ (সবচেয়ে বেশি) |
| রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক | ২,৬২০ |