পিনাকী ভট্টাচার্য “তিনি একজন চিকিৎসক, লেখক, ব্লগার, এবং রাজনৈতিক চেতনায় বগুড়া এক অসাধারণ মানুষ, যার নাম এখন অনলাইন-রাজনীতির অঙ্গনে স্বনাম। এই গল্প শুরু হয় ১৯৬৭ সালে, ৮০- দশকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাস করছেন।
###জন্ম ও শিক্ষা
“পিনাকী ভট্টাচার্য জন্মগ্রহণ করেন ১ মার্চ ১৯৬৭ সালে বগুড়া জেলার এক মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারে। তিনি বগুড়া জেলা স্কুলের প্রাক্তন পিয়ন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক শ্যামল ভট্টাচার্যের বড় ছেলে । তার এক ভাই এবং এক বোন রয়েছে। শৈশব-কৈশোর কেটেছে স্থানীয় সরকারি স্কুল এবং কলেজে—এরপর তিনি ১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়ন এবং ১৯৯২ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পিনাকী একজন চিকিৎসা পেশাদার যিনি আইএই প্যারিস সরবোন বিজনেস স্কুল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি এবং এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন , একই সাথে টেকসইতার উপর পিএইচডি করেছেন।
### রাজনৈতিক
“ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন বাম ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, ছিলেন ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’-এর নেতা, এবং ১৯৯০-এর গণ–উপদ্রব আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী দশকে ‘শাহবাগ আন্দোলন’ ও ২০১৮ সালের সড়ক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও তিনি শামিল ছিলেন। এবং তার অনলাইন ব্লগ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্যই তাকে করে তোলে জনমতের একজন শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।”
### নির্বাসন ও শরণার্থিত্ব
“২০১৮ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে আসার পর তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। ভয়, হেনস্থা ও হয়রানির কারণে তিনি বাংলাদেশের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন—প্রথম থাইল্যান্ডে পৌঁছান, পরে ২০১৯ সালে ফ্রান্সে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় পান। বর্তমানে তিনি প্যারিসে বসবাস করছেন এবং ল'ওরিয়াল সহ কিছু ফরাসি মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং পেশায় যুক্ত।”
### বিতর্ক ও মামলা
“২০২২ সালের নভেম্বরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় একটি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। তবে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে তিনি মামলা থেকে *বিচ্ছিন্ন (অ্যাকুইট)* হন। তার ভাষ্যমতে—‘তিনি শুধু সত্য বলছেন; তাই তাকে দমন করা হচ্ছে।’ এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরেও আসে।”
### লেখালেখি ও প্রকাশনা
“পিনাকী নানা বিষয়ে লেখেন এবং বইও প্রকাশ করেছেন । মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম, ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য নিয়ে। উল্লেখযোগ্য বইগুলো যেমন: স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ, মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ, মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম, ইতিহাসের ধুলোকালি ইত্যাদি।”
তিনি নিজেকে “মজলুমদের পাশে” দাঁড়ানোরপক্ষে অভিব্যক্ত করেন, এবং এটিকে মানুষের কাজ বলে উল্লেখ করেন।
https://youtu.be/pS_deahSQP0