
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস-কে ৬০ দিনের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণের আল্টিমেটাম দিয়েছে ইসরাইল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা না দিলে গাজায় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেল আবিব।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরাইলের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োসি ফুচস এই হুঁশিয়ারি দেন।
অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ
ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানান, হামাসকে ৬০ দিনের মধ্যে সব ধরনের অস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ রাইফেলও জমা দিতে হবে। এ সময়সীমা নির্ধারণে মার্কিন প্রশাসনের অনুরোধ ছিল বলেও জানান তারা।
অন্যথায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) নতুন করে সামরিক অভিযানে নামবে বলে হুমকি দিয়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামাসের যোদ্ধারা সীমান্ত অতিক্রম করে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
অন্যদিকে হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরাইল সীমান্ত পয়েন্টে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে এবং অসুস্থ ও আহতদের চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে দিচ্ছে না।
তাদের দাবি অনুযায়ী, রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মাত্র ৮১১ জন যাতায়াত করতে পেরেছে, যেখানে প্রত্যাশিত সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮০০ জন।
গাজায় সহিংসতা অব্যাহত
আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি থাকলেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এখনও পুরোপুরি থামেনি ইসরাইলি হামলা। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে হতাহতও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
ধ্বংসস্তূপ সরাতে লাগতে পারে বছর
এদিকে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপি সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজার ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গাজা সিটি পরিদর্শন শেষে সংস্থাটির প্রতিনিধিদল জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের সুযোগ তৈরিতে তারা কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হামাসকে দেওয়া এই ৬০ দিনের আল্টিমেটাম মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। সময়সীমার মধ্যে সমঝোতা না হলে গাজায় আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।











