
শেরপুর প্রতিনিধি।
দেশের উত্তর সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ে রসালো আনারসের পরীক্ষামূলক চাষাবাদে সফল হয়ে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে আনারস চাষ।
আনারসের রাজধানী মধুপুরের আনারসের রসালো স্বাদ ছড়িয়ে পড়েছে শেরপুরের গারো পাহাড়ে।
গতবছর মধুপুরের আনারস চাষি পিটার ডালবট নামে এক গারো আদিবাসী শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের উত্তর বাঁকাকূড়া গ্রামে তার শ্বশুর হালদ্রা সাংমার ৬ একর জমিতে বানিজ্যিক ভাবে এ আনারস চাষ শুরু করেন। প্রথম অবস্থায় একটু চিন্তায় পড়লেও পরবর্তিতে ফলন দেখে আশায় বুক বাঁধেন পিটার।
এবছরে পিটারের সাফল্যতা দেখে জন, সং,রং ও মোঃ সজীব মিয়া প্রথম বারে মধুপুরের রসালো এবং সুস্বাদের আনারসের চাষ শুরু করেন।
মোঃ সজীব মিয়া বলেন এবারে আমি ৯ একর জমিতে ১ লক্ষ ৯০ হার আনারসের চারা রোপন করেছি এরমধ্যে ৩০ হাজার বড় জাতের আনারস আছে। সমস্ত বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ, সেচ, সার, পরিচর্যা বাবদ খরচ
হয়েছে এবছর ১৫ লক্ষ্য টাকা তিনি বলেন বাজার ভালো হলে ২৫ থেকে ২৬ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, “সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আমাদের আনারস বিক্রির জন্য বাজারে নিতে হয়না। সব ক্ষেতথেকেই পাইকারেরা এস কিনে নিয় যায়।
এর পর থেকেই আশপাশের অনেকেই এ বাগান দেখে এবং চাষাবাদের আগ্রহী হয়ে এবার বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, শেরপুরের গারো পাহাড়ে কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে আনারস চাষ। বন্য হাতির আক্রমণে ধানসহ অন্যান্য ফসলের বারবার ক্ষতির মুখে পড়েন পাহাড়ি এলাকার কৃষকরা। ফলে তারা বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে এখন ঝুঁকছেন আনারস চাষে। আর জলডুগি জাতের এ আনারস রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এ আনারস এখন দেশের বিভিন্ন জেলাতেও রপ্তানি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি উপ কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন বলেন আনারস চাষে লাভবান হয়েছে পাহাড়ের কৃষক । ধান বা অন্যান্য ফসল বন্য হাতির আক্রমণে ধ্বংস হয়ে যায় কিন্তু আনারস তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও লাভজনক। গতবারের মতো এবারও ভালো মুনাফার প্রত্যাশা করছেন তিনি ।
এত মিষ্টি আনারস আমাদের শেরপুরের পাহাড়ি ইট বালুর মাটিতে উৎপাদন হচ্ছে তা না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না“ মধুর মতো মিষ্টি এই আনারস। আমি চাই আমাদের শেরপুরের গারো পাহাড়ে অনেক অনাবাদি জমি আছে। সেই জমিগুলোতে যেন আরও বড় পরিসরে আনারস চাষ করা হয়।
আনারসের সাইজ ছোট হলেও মিষ্টি যেন মধুর হাড়ি। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা এখন সময়ের দাবি। শেরপুরে চাষ হলে আমরা হাতের নাগালে সুমিষ্ট আনারস অল্প দামে পাব। এতে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে।
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আনারস চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ঝিনাইগাতীর সফলতা দেখে এখন নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবরদীতেও এই চাষ ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বন্য হাতির আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে এই অঞ্চল শিগগিরই দেশের অন্যতম প্রধান আনারস উৎপাদন অঞ্চলে রূপ নিতে পারে।”
পাঠক সংখ্যা : ৪৪২











