
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তে বিচারিক দায়িত্ব পালনে তিনি ‘অযোগ্য’ প্রমাণিত হওয়ায় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬–এর বিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। বুধবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তদন্ত চালিয়ে তাঁকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হিসেবে মত দিয়েছে। এর ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি তাঁর অপসারণ কার্যকর করেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বছরের ১৬ অক্টোবর দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভিন্ন ক্যাম্পাসের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে খুরশীদ আলমসহ ১২ জন বিচারপতিকে বিচারকার্য থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখা হয়েছিল। ওই ১২ জনের মধ্যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে এখন পর্যন্ত তিনজনকে অপসারণ করা হলো। এর আগে বিচারপতি খিজির হায়াত ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে অপসারণ করা হয়।
এ ছাড়া তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন ও বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। অপরদিকে বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান এবং বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস চাকরিকালীন মেয়াদ পূর্ণ করে অবসর নেন।
বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১৩ সালে স্থায়ী নিয়োগ লাভ করেন।
২০১৪ সালে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনার জন্য সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হলেও পরবর্তীতে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ সেটি বাতিল ঘোষণা করে। গত বছরের ২০ অক্টোবর রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তির মাধ্যমে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আবারও কার্যকর হয় এবং সেই ব্যবস্থার অধীনেই এ অপসারণ সম্পন্ন হলো।











