
আজ রাতে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট প্লে-অফের ফিরতি লেগে মাঠে নামছে তিন ইউরোপিয়ান জায়ান্ট—রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং প্যারিস সাঁ-জার্মাঁ। প্রতিটি ম্যাচই শুরু হবে রাত ২টায় (বাংলাদেশ সময়), আর প্রতিটিতেই লুকিয়ে আছে নাটক, উত্তেজনা আর সম্ভাব্য অলৌকিক কামব্যাকের গল্প।
রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বেনফিকা
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অপরাজেয় রাজা রিয়াল মাদ্রিদ। ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন, যাদের ডিএনএ-তে মিশে আছে কামব্যাকের অবিশ্বাস্য ইতিহাস। প্রথম লেগে লিসবনে তারা ১-০ গোলে জিতে এসেছে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে। কিন্তু সেই ম্যাচ ছিল শুধু ফুটবলের নয়—বর্ণবাদের অভিযোগে ছিল উত্তপ্ত। উয়েফার তদন্ত চলছে, বেনফিকার প্রেস্তিয়ান্নি নিষিদ্ধ। এখন বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগ—যেখানে প্রতিপক্ষের জন্য এই মাঠ সবসময়ই দুঃস্বপ্ন। তবু চিন্তার কারণ আছে: কিলিয়ান এমবাপে ইনজুরিতে পড়েছেন। কোচ আরবেলোয়া বলছেন, “ভিনি একজন যোদ্ধা, ড্রেসিংরুমের সবচেয়ে মনোযোগী ছাত্র। সে মাঠে নামবে এবং জাদু দেখাবে।” বেনফিকা অবশ্য আত্মবিশ্বাসী—শনিবার লিগে ৩-০ গোলে জিতেছে, ফর্মে ফিরেছে। তারা বিশ্বাস করে, বার্নাব্যুতে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। ইতিহাসও তাদের পক্ষে—১৯৬২-এর ফাইনালে ৫-৩ গোলে জয়ের স্মৃতি এখনও জ্বলজ্বল করে। কিন্তু রিয়ালের বার্নাব্যু জাদু কি আবার দেখা যাবে?
জুভেন্তুস বনাম গালাতাসারায়
এদিকে তুরিনের ওল্ড লেডিরা এখন আহত সিংহের মতো। প্রথম লেগে ইস্তাম্বুলে গালাতাসারের কাছে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে তারা—একটা অকল্পনীয় হার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম লেগে তিন বা তার বেশি গোলে হেরে মাত্র চারটি দলই পরের রাউন্ডে উঠতে পেরেছে। জুভেন্তাসের সামনে এখন পাহাড়সমান চ্যালেঞ্জ। সেরি আ-তে ফর্মও খারাপ—ইন্তার ও কোমোর কাছে হার, হোমে দীর্ঘ অপরাজিত রেকর্ড ভেঙেছে। দু’বারের চ্যাম্পিয়ন এখন লড়াই করছে বেঁচে থাকার জন্য। তবু আল্পসের এই ক্লাবের রক্তে মিশে আছে লড়াইয়ের আগুন। অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের আশায় তারা মাঠে নামবে—হয়তো বার্নাব্যুর মতোই তুরিনেও একটা অবিশ্বাস্য গল্প লেখা হবে।
প্যারিস সাঁ-জার্মাঁ বনাম মোনাকো
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি প্রথম লেগে স্বদেশি মোনাকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলে এগিয়ে আছে। পার্ক দেস প্রিন্সেসে আজ তারা আতিথ্য দেবে মোনাকোকে। ফরাসি ডার্বির এই লড়াইয়ে পিএসজির হাতে সুবিধা, কিন্তু মোনাকো কখনো সহজ প্রতিপক্ষ নয়। এখানে প্রতিটি গোল, প্রতিটি ট্যাকলই গুরুত্বপূর্ণ—কারণ একটা ছোট ভুলই সব শেষ করে দিতে পারে। পিএসজি চাইবে ঘরের মাঠে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিয়ে রাউন্ড অব সিক্সটিন নিশ্চিত করতে, যেন চ্যাম্পিয়নদের মুকুট ধরে রাখার পথ আরও সহজ হয়।

আজ রাতে ফুটবলপ্রেমীরা চোখ রাখুন টিভির সামনে—কারণ এই ম্যাচগুলো শুধু ফুটবল নয়, এগুলো আবেগের, ড্রামার আর অসম্ভবকে সম্ভব করার রাত। কে এগিয়ে যাবে? কে লিখবে নতুন ইতিহাস? উত্তর আসবে মাঠ থেকেই।











