
নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্রাহ্মণবাড়িয়া
চীনা নাগরিক ওয়াং তাওজেনের সঙ্গে সুরমা আক্তারের বিয়ে আর হয়ে উঠল না। একাধিক আইনি জটিলতা ও দূতাবাসের সতর্কবার্তার কারণে শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরে যাচ্ছেন এই চীনা তরুণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা গ্রামের কোনাপাড়ার বাসিন্দা সুরমা আক্তার ও তাওজেনের পরিচয় হয়েছিল দেড় মাস আগে, একটি অনলাইন অ্যাপ “ওয়াল টক”-এর মাধ্যমে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।
প্রেমের টানে তাওজেন ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশে আসেন। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিয়ের দিন নির্ধারিত থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেও তিনি বিয়ে সম্পন্ন করতে পারেননি। আদালতে বিয়ের প্রস্তুতির সময় আইনজীবীরা তাকে পরামর্শ দেন চীনা দূতাবাসের মতামত নিতে।
এরপর দূতাবাসে যোগাযোগ করলে তাদের জানানো হয়, চীনা নাগরিকদের বিদেশি নারীকে বিয়ের আগে নিজ দেশের আইনগত অনুমতি নিতে হয়। পাশাপাশি ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস সম্প্রতি বাংলাদেশি নারীদের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করেছে—যাতে মানবপাচার বা প্রতারণার আশঙ্কা এড়ানো যায়।
দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, চীন সরকার কোনো সংস্থাকে আন্তর্জাতিক বিয়ের “ম্যাচমেকিং” সেবা দেওয়ার অনুমতি দেয় না। তাই অনলাইন প্রেম বা বিয়ের বিষয়ে নাগরিকদের সাবধান হতে বলা হয়েছে।
সুরমার পরিবার জানায়, তারা বিয়ের জন্য বহু চেষ্টা করেও আইনগত সমাধান না পেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। সুরমার মা নুরেনা বেগম বলেন, “ও (তাওজেন) সত্যি আমার মেয়েকে ভালোবাসে, এমনকি ইসলামও গ্রহণ করেছে। কিন্তু নিয়মের জটিলতা আমাদের থামিয়ে দিয়েছে।”
সুরমার চাচা জানান, দূতাবাসের পরামর্শে তারা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন, তবে সেখান থেকেও কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাননি। ফলে তাওজেন আপাতত দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চলতি সপ্তাহেই ঢাকায় অবস্থান শেষে তিনি চীনে ফিরে যাবেন বলে জানা গেছে। বিদায়ের সময় তাওজেন পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তিনি ফিরে এসে সুরমাকে বিয়ে করবেন।











